শুনে যাই, প্রতিদিনই শুনি;
কংক্রিটের অস্ফুট আস্ফালন,
অযুত নক্ষত্রের মতো গুনি
আমাদের পরিচিত - কনস্ট্রাকশন।
চেনা গলিপথ, সমুদ্র আকাশ
ঢাকে আলকাতরা রঙে;
গুঁড়ো গুঁড়ো পাথুরে নির্যাস,
প্রাগৈতিহাসিক গুহার ঢং-এ।
এখনো খসড়া লেখে গুলাগ দ্বীপেরা,
লেখে বিচ্ছিন্নতার আবাহণ,
(কিংবা প্রাত্যহিক ক্লিশে সোপ-অপেরা )
পটভূমিতে এই কনস্ট্রাকশন।
বুনো-আরণ্যক কৈশোরের স্মৃতিতে,
চড়ে বসে ধবল-ধূসর কাফন।
আর নিখুঁত বিনির্মাণ স্তুতিতে,
গড়ে ওঠে কর্কশ ইস্পাত বন।
আমাদের সলো কোরাস,প্রতি জনে জনে
বেরুতে চায়, হতে চায় মূর্তিমান অনশন,
ছিটকে যায়, ঠিকরে পড়ে, কোণে কোণে।
অটল, স্থির থাকে শুধু, আমাদের প্রিয় - কনস্ট্রাকশন।
Saturday, August 1, 2009
Saturday, May 30, 2009
শহুরে শিশিরের পাশে
পৃথুলা,সাবেক
প্রেমিকার সাথে,
দেখা হবে লাভাময়তায়।
রাজপথে।
নিদাঘ সূর্যের তাপে,
গলে গলে পড়বে
সৌজন্যতা বোধ।
আপাত ভদ্রতায়,
শীতাতপ বিপণিতে,
রচিত হবে নিখুঁত
কথোপকথনের গোলটেবিল।
আমাদের পানীয়ের
প্রতিসরণ,
আমাদের উত্তল কাঁচ,
খুঁজবে খুব দ্রুততায়
ঈর্ষার বলিরেখা।
অতঃপর
ভগ্নদূতের মত,
ব্যর্থতা-গ্লানি-হতাশায়,
কাঁচদেয়ালের পাশে,
শহুরে শিশির জমেছে
যেখানে।
সেখানে,
ঠিক সেইখানে।
বসে থাকব
হাতে হাত রেখে।
নির্বাক আমরা।
প্রেমিকার সাথে,
দেখা হবে লাভাময়তায়।
রাজপথে।
নিদাঘ সূর্যের তাপে,
গলে গলে পড়বে
সৌজন্যতা বোধ।
আপাত ভদ্রতায়,
শীতাতপ বিপণিতে,
রচিত হবে নিখুঁত
কথোপকথনের গোলটেবিল।
আমাদের পানীয়ের
প্রতিসরণ,
আমাদের উত্তল কাঁচ,
খুঁজবে খুব দ্রুততায়
ঈর্ষার বলিরেখা।
অতঃপর
ভগ্নদূতের মত,
ব্যর্থতা-গ্লানি-হতাশায়,
কাঁচদেয়ালের পাশে,
শহুরে শিশির জমেছে
যেখানে।
সেখানে,
ঠিক সেইখানে।
বসে থাকব
হাতে হাত রেখে।
নির্বাক আমরা।
Friday, May 29, 2009
বাস্তব মৃত্যুর পরে
বাস্তব মৃত্যুর পরে হয়ত
এমনই একটা দিন চাইব আমি।
পাটভাঙা শাড়ির মত
বৃষ্টির তীরে আহত বিকেল,
অথবা
চেরিফুলে আলুলায়িত বিকেল।
শবের মায়াগন্ধ মেখে,
চন্দন,ধূপ,কর্পূর ছুঁয়ে,
নীল,কালো,লাল,বেগুনী,
এমন রঙের চুম্বন পেয়ে,
ধীরে হয়ত আরো ধীরে ।
শেষযাত্রার উলম্ব আকাশ,
বধির বৃষ্টির বিনম্র ফোঁটা,
পথচারীর চকিত দৃষ্টি,
এসব কিছু এড়িয়ে
কাদা মাখা পদচিহ্ন
হয়ত ছড়িয়ে দেবে,
দীর্ঘশ্বাসের সংক্রামক বীজাণু ।
বাস্তব মৃত্যুর পরে হয়ত
এমনই দিন চাইব আমি ...
এমনই একটা দিন চাইব আমি।
পাটভাঙা শাড়ির মত
বৃষ্টির তীরে আহত বিকেল,
অথবা
চেরিফুলে আলুলায়িত বিকেল।
শবের মায়াগন্ধ মেখে,
চন্দন,ধূপ,কর্পূর ছুঁয়ে,
নীল,কালো,লাল,বেগুনী,
এমন রঙের চুম্বন পেয়ে,
ধীরে হয়ত আরো ধীরে ।
শেষযাত্রার উলম্ব আকাশ,
বধির বৃষ্টির বিনম্র ফোঁটা,
পথচারীর চকিত দৃষ্টি,
এসব কিছু এড়িয়ে
কাদা মাখা পদচিহ্ন
হয়ত ছড়িয়ে দেবে,
দীর্ঘশ্বাসের সংক্রামক বীজাণু ।
বাস্তব মৃত্যুর পরে হয়ত
এমনই দিন চাইব আমি ...
Monday, May 11, 2009
ফার্মিনার প্রতি এলিজি
হ্যাঁ ফার্মিনা, তোমার কথাই ভাবছিলাম ।
আজকের মেঘলা সন্ধ্যায়,
আমার উত্তরের জানালা দিয়ে
যখন ধূসর আকাশ দেখছিলাম ;
তোমার, শুধু তোমার কথাই ভাবছিলাম ।
তোমার চোখের গাঢ়, কালো আইরিশের
মতো সন্ধ্যা ঘনিয়েছিল,
অন্যান্য দিনের মতো কার্নিশের কাকেরা
ছিলোনা কর্কশ কিংবা সরব ।
দূরের পান্ডুর আকাশের গায়ে যখন
বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল থেকে থেকে,
তখন আমার তোমার কথা মনে পড়ছিল ।
আসন্ন ভেজা হাওয়ার পূর্বাভাস,
জানালার গরাদের চোখরাঙানি পেরিয়ে
শুধু তোমার স্মৃতি বয়ে আনছিল ।
সেই আগের বৃষ্টির দিনগুলি...
মনে পড়ে ফার্মিনা ?
এখনো কি তোমার কালো চুলে
বৃষ্টির ফোঁটারা বিন্দু বিন্দু স্ফটিকের মতো
ছিটকে পড়ে অবিরল ?
ফার্মিনা, আর একবার,একবার
বসো তোমার প্রিয় ব্যালকনিতে,
ঘোলা সাগরের মতো আকাশের নিচে,
শ্যাওলা ধরা শুনশান ছাদে ।
ফার্মিনা, আমি তোমার,
শুধু তোমার কথাই ভাবছিলাম ।
আজকের মেঘলা সন্ধ্যায়,
আমার উত্তরের জানালা দিয়ে
যখন ধূসর আকাশ দেখছিলাম ;
তোমার, শুধু তোমার কথাই ভাবছিলাম ।
তোমার চোখের গাঢ়, কালো আইরিশের
মতো সন্ধ্যা ঘনিয়েছিল,
অন্যান্য দিনের মতো কার্নিশের কাকেরা
ছিলোনা কর্কশ কিংবা সরব ।
দূরের পান্ডুর আকাশের গায়ে যখন
বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল থেকে থেকে,
তখন আমার তোমার কথা মনে পড়ছিল ।
আসন্ন ভেজা হাওয়ার পূর্বাভাস,
জানালার গরাদের চোখরাঙানি পেরিয়ে
শুধু তোমার স্মৃতি বয়ে আনছিল ।
সেই আগের বৃষ্টির দিনগুলি...
মনে পড়ে ফার্মিনা ?
এখনো কি তোমার কালো চুলে
বৃষ্টির ফোঁটারা বিন্দু বিন্দু স্ফটিকের মতো
ছিটকে পড়ে অবিরল ?
ফার্মিনা, আর একবার,একবার
বসো তোমার প্রিয় ব্যালকনিতে,
ঘোলা সাগরের মতো আকাশের নিচে,
শ্যাওলা ধরা শুনশান ছাদে ।
ফার্মিনা, আমি তোমার,
শুধু তোমার কথাই ভাবছিলাম ।
Tuesday, May 5, 2009
পদাতিকের আত্মস্বীকৃতি
আমি আর উপরে তাকাই না,
চোখ থাকে মাটির কাছাকাছি ,
আকাশের নীল অথবা নিঃসঙ্গ চিলকে
করি না আর আগের মতো বাছাবাছি ।
ছাইরঙা ফ্যাকাশে জীবন আর
তাঁর ক্রমশ কৃপণ সংকোচন ,
গোল্ডফিশের অ্যাকোয়ারিয়াম হয়ে
আমাকে দেয় শাপগ্রস্ত নাবিকের নির্বাসন ।
কটু স্বেদের বাঘছাল জড়াই আষ্টেপৃষ্ঠে
গ্রীষ্মের প্রলম্বিত দিনের আলোয়,
বঙ্গবাজারের বেতো ঘোড়াগুলির মতো
গড়াগড়ি যাই আলস্যের ধূসর ধূলোয় ।
আমি আর উপরে তাকাই না ,
চোখ থাকে মাটির কাছাকাছি ,
মূল্যহীন স্বপ্নগুলি আস্তাকুঁড়ে
ছুঁড়ে দিয়ে প্রাণহীন, যন্ত্রবৎ বাঁচি ।
চোখ থাকে মাটির কাছাকাছি ,
আকাশের নীল অথবা নিঃসঙ্গ চিলকে
করি না আর আগের মতো বাছাবাছি ।
ছাইরঙা ফ্যাকাশে জীবন আর
তাঁর ক্রমশ কৃপণ সংকোচন ,
গোল্ডফিশের অ্যাকোয়ারিয়াম হয়ে
আমাকে দেয় শাপগ্রস্ত নাবিকের নির্বাসন ।
কটু স্বেদের বাঘছাল জড়াই আষ্টেপৃষ্ঠে
গ্রীষ্মের প্রলম্বিত দিনের আলোয়,
বঙ্গবাজারের বেতো ঘোড়াগুলির মতো
গড়াগড়ি যাই আলস্যের ধূসর ধূলোয় ।
আমি আর উপরে তাকাই না ,
চোখ থাকে মাটির কাছাকাছি ,
মূল্যহীন স্বপ্নগুলি আস্তাকুঁড়ে
ছুঁড়ে দিয়ে প্রাণহীন, যন্ত্রবৎ বাঁচি ।
Tuesday, December 2, 2008
নাগরিক স্লথের দিনলিপি
কুয়াশায় ঢাকা নিঃসঙ্গ ল্যাম্পপোস্টের মত
এ নগরীর আমি এক নির্বাক প্রহরী ।
জাপানী কাঠপুতুলেরা, জ্ঞানের কুসীদজীবী,
আলকাতরা মাখা চশমাওয়ালা অথবা চন্দ্রগ্রস্তদের
কোলাহলের ধাক্কা আমাকে স্পর্শ করে না ।
যদিও ভাঙনের শবযাত্রী শব্দেরা ,
আমার চারপাশে আহাজারি করে ফেরে ।
হাসির আড়ালের নোনা জলছাপ,
শতচ্ছিন্ন হৃদয়ের প্রতিধ্বনি ,
আমার কুইনাইনের কাজ করে ।
মরচে ধরা কলমের গা বেয়ে অস্বস্তির ঘাম নামে,
শীতের আলস্য অসাড় করে তোলে প্রতিনিয়ত ।
শীতনিদ্রার জোগাড়যন্ত করে চলি ...
বিষন্নতার ছাপ খুঁজি, ভাঙা স্বপ্নের টুকরোগুলি
বৃথাই জোড়া লাগাই বারবার, অনবরত ।
তবুও তরল সময় গড়িয়ে চলে ,
বিস্মৃতির ধূলো আরও প্রগাঢ় প্রলেপ ফেলে,
আর আমি স্থবির পাথরের নিঃশব্দতা নিয়ে
ক্ষয় হতে থাকি ক্রমশ।
এ নগরীর আমি এক নির্বাক প্রহরী ।
জাপানী কাঠপুতুলেরা, জ্ঞানের কুসীদজীবী,
আলকাতরা মাখা চশমাওয়ালা অথবা চন্দ্রগ্রস্তদের
কোলাহলের ধাক্কা আমাকে স্পর্শ করে না ।
যদিও ভাঙনের শবযাত্রী শব্দেরা ,
আমার চারপাশে আহাজারি করে ফেরে ।
হাসির আড়ালের নোনা জলছাপ,
শতচ্ছিন্ন হৃদয়ের প্রতিধ্বনি ,
আমার কুইনাইনের কাজ করে ।
মরচে ধরা কলমের গা বেয়ে অস্বস্তির ঘাম নামে,
শীতের আলস্য অসাড় করে তোলে প্রতিনিয়ত ।
শীতনিদ্রার জোগাড়যন্ত করে চলি ...
বিষন্নতার ছাপ খুঁজি, ভাঙা স্বপ্নের টুকরোগুলি
বৃথাই জোড়া লাগাই বারবার, অনবরত ।
তবুও তরল সময় গড়িয়ে চলে ,
বিস্মৃতির ধূলো আরও প্রগাঢ় প্রলেপ ফেলে,
আর আমি স্থবির পাথরের নিঃশব্দতা নিয়ে
ক্ষয় হতে থাকি ক্রমশ।
Friday, September 12, 2008
অন্ধকারের প্রত্যাশায়
প্রতিদিনই মুখোশ চাপাই মুখে
হলুদ, বিবর্ণ, সস্তা আর ক্ষয়াটে।
প্রতিদিনই লড়ে যাই লড়াই,
অমোঘ নিয়তির বাস্তবতার বিরুদ্ধে ।
সন্ধ্যার ছায়াচ্ছন্ন সবজেটে কালো জলে
ডুবসাঁতার দিতে খুব ইচ্ছে করে,
ইচ্ছে করে মুখ রগড়ে মুছে ফেলি
বিষন্নতা, অবসাদ আর মুখোশের রং।
দাসত্বের শেকল আরো আঁটো হয়ে ওঠে
স্বপ্নেরা হয়ে ওঠে আরো নির্মম,
ভোঁতা অনুভূতিরা পরিযায়ী পাখিদের মতন
আবাস গাড়ে মস্তিকের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ।
শরতের শুকনো নদী, কাশফুল, মিঠেকড়া রোদ
কিংবা দূরের ঢাকের বাজনার চেয়ে
শান্ত, গাঢ়, থকথকে অন্ধকারকে মনে হয়
আমার একান্তের, আমার সবচেয়ে কাম্যের ।
হলুদ, বিবর্ণ, সস্তা আর ক্ষয়াটে।
প্রতিদিনই লড়ে যাই লড়াই,
অমোঘ নিয়তির বাস্তবতার বিরুদ্ধে ।
সন্ধ্যার ছায়াচ্ছন্ন সবজেটে কালো জলে
ডুবসাঁতার দিতে খুব ইচ্ছে করে,
ইচ্ছে করে মুখ রগড়ে মুছে ফেলি
বিষন্নতা, অবসাদ আর মুখোশের রং।
দাসত্বের শেকল আরো আঁটো হয়ে ওঠে
স্বপ্নেরা হয়ে ওঠে আরো নির্মম,
ভোঁতা অনুভূতিরা পরিযায়ী পাখিদের মতন
আবাস গাড়ে মস্তিকের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ।
শরতের শুকনো নদী, কাশফুল, মিঠেকড়া রোদ
কিংবা দূরের ঢাকের বাজনার চেয়ে
শান্ত, গাঢ়, থকথকে অন্ধকারকে মনে হয়
আমার একান্তের, আমার সবচেয়ে কাম্যের ।
Subscribe to:
Comments (Atom)